
মাগুরা-২ আসনে ধানের শীষের সম্ভাব্য ভরাডুবির দায় কোনো একক ব্যক্তি বা ভোটারের নয়, এর মূল কারণ গ্রুপিং রাজনীতি। বিশেষ করে ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট নিতাই রায়চৌধুরী এর পাশে থাকা কিছু নেতার ভূমিকা আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
দীর্ঘদিন ধরে মাগুরার রাজনীতিতে তৃণমূলের শক্তিশালী অংশ জড়িয়ে আছে স্বতন্ত্র ধারায়। বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল সেই ধারার কেন্দ্র-বিন্দু।
সর্বশেষ বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে বিএনপি থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে তৃণমূল বিএনপির বহু সিনিয়র নেতা একতাবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
অন্যদিকে এডভোকেট নিতাই রায়চৌধুরীর সঙ্গে থাকা বর্তমান গ্রুপটি চায় না। বিএনপির সব আমলের কর্মী-সমর্থক এক হয়ে ধানের শীষে কাজ করুক।
গ্রুপিং ভাঙলে তাদের বিশেষ অবস্থান ও সুবিধা থাকবে না। তাই ঐক্যের বদলে গ্রুপিং টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে, যা সরাসরি ধানের শীষের ক্ষতি করছে।
বাস্তবতা হলো নিতাই রায়চৌধুরীর তৃণমূল ভিত্তি তুলনামূলক ভাবে দুর্বল। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাশে থাকা সংগঠকরা মাঠে বেশি গ্রহণযোগ্য, বেশি প্রভাবশালী এবং ঐক্যবদ্ধ।
এই সমীকরণে গ্রুপিং চলতে থাকলে ধানের শীষের ভরাডুবি অনিবার্য হয়ে উঠছে আর লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে কাজী সালিমুল হক কামালের।
মাগুরা-২ এ ধানের শীষের জয়পরাজয়ের চাবিকাঠি এখন ঐক্য। গ্রুপিং রাজনীতি বন্ধ না হলে দায় ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে আর বিজয়ের পাল্লা ঝুঁকবে স্বতন্ত্র ধারার দিকেই।