
মুহসিন মোল্লা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামি দলগুলোর বৃহত্তর জোট গঠনের প্রক্রিয়া থমকে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জোট নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও, বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে জোটের অন্যতম শরিক হতে যাওয়া জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা।
ইসলামী আন্দোলনের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার অভিযোগ, জোট গঠনের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর ‘মোড়লগিরি’ ও দ্বিমুখী আচরণ। তারা বলছেন, জামায়াত মুখে ঐক্যের বুলি আওড়ালেও বাস্তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা বলেন, ‘‘জোট রাজনীতি সম্পূর্ণ বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু জামায়াতের সাম্প্রতিক আচরণে সেই বিশ্বাস বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তারা যৌথ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে কৌশলী নীরবতা বা দ্বিধাগ্রস্ত ভূমিকা পালন করছে, যা পারস্পরিক আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’’
জোটের এই টানাপড়েনের মধ্যেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০০ আসনেই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে দলের সহকারী মহাসচিব সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের দৈনিক সকালবেলাকে বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছি। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।’’
তবে তিনি আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ নয় উল্লেখ করে বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা একেবারে বন্ধ—এমনটাও আমরা মনে করি না। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় সমঝোতা সময়সাপেক্ষ বিষয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট থাকলে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু একতরফা সিদ্ধান্ত বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থাকলে সেটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতীত অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ইসলামি দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট প্রকট। পারস্পরিক বিশ্বাস ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করতে পারলে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা কঠিন হবে।
এদিকে, ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এম.এম/সকালবেলা