
নিজস্ব প্রতিবেদক: বার্ষিক আয়ের দিক থেকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদেরও ছাড়িয়ে গেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের চেয়েও বেশি। এমনকি জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আয়ের চেয়েও এগিয়ে আছেন তিনি।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নুরুল হক নুরের নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন সাবেক এই ছাত্রনেতা।
আয়ের খতিয়ান: পেশায় ব্যবসায়ী নুরুল হক নুরের বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আসে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা।
বিপরীতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয়ের দৌড়ে হেভিওয়েট নেতাদের পেছনে ফেলেছেন নুর।
সম্পদ ও দায়ের বিবরণ: আয়ে নুর এগিয়ে থাকলেও মোট সম্পদের হিসাবে শীর্ষে রয়েছেন তারেক রহমান (১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা)। এরপরই আছেন ডা. শফিকুর রহমান (১ কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা)। নুরের মোট সম্পদের পরিমাণ ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা।
নুরের সম্পদের মধ্যে রয়েছে:
নগদ: ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা: ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা।
কোম্পানি শেয়ার: ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আমানত: ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা।
জমি: নিজের নামে ৮২ ডেসিমেল এবং স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে ৩ একর কৃষিজমি।
দায়ের হিসেবে নুরের ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা দেনা থাকলেও তার নামে কোনো ব্যাংক ঋণ নেই। নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তার পেশায় একজন শিক্ষিকা; তার বার্ষিক আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা এবং মোট সম্পদ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা।
মামলা ও পারিবারিক তথ্য: পারিবারিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুল হক নুর তিন সন্তানের জনক। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ৬টি মামলা চলমান রয়েছে, তবে এর আগে ৮টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
ভোটের মাঠ ও প্রতিপক্ষ: পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটগত সমঝোতার কারণে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। তবে এই আসনে নুরের প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে পারেন বিএনপির সদ্য পদত্যাগী নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের আরেক অংশের নেতা শহিদুল ইসলাম ফাহিমও এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এম.এম/সকালবেলা