
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মোট ১১ জন নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে কৌশলগত কারণে দুটি আসনে দুজন করে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, আর বাকি তিনটি আসনে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন চারজন প্রভাবশালী নেতা। একই আসনে একাধিক প্রার্থী ও হেভিওয়েট নেতাদের ‘বিদ্রোহী’ অবস্থানকে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কৌশলগত ‘দ্বৈত’ প্রার্থী: দলের হাই-কমান্ডের সিদ্ধান্তে সুনামগঞ্জ-১ ও সুনামগঞ্জ-২ আসনে দুজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর-ধর্মপাশা-মধ্যনগর-জামালগঞ্জ): এখানে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন পান কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুলকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২৯ ডিসেম্বর উভয় নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা): এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল—উভয়কেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) জিকে গউছ বলেন, ‘‘এটি দলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দুজনকে মনোনয়ন জমা দিতে বলা হয়েছে। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের সময় দলের নির্দেশ অনুযায়ী একজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন।’’
বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র কাঁটা: বাকি তিনটি আসনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে চারজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি।
সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিবগঞ্জ-জগন্নাথপুর): এখানে ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর): এই আসনে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। তবে মনোনয়ন না পেয়ে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন দুজন হেভিওয়েট নেতা—মরমি কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এবং সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার আবিদুল হক।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা বাজার): এখানে সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী।
সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জে বিএনপির ১১ প্রার্থীর উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ও স্নায়ুচাপ বাড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীদের মানানো যাবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে তৃণমূল।
এম.এম/সকালবেলা