
ইরানে টানা এক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার (৪ জানুয়ারি) এমনটাই দাবি করেছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস সংঘর্ষ ঘটে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার নেটওয়ার্ক এইচআরএএনএ বলছে, অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রয়টার্সের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সপ্তাহজুড়ে নিহত ও গ্রেফতারের খবর দিলেও সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। রয়টার্স এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইরানে তিন বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। অর্থনীতি বিপর্যস্ত ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে দেশটির শীর্ষ নেতারা আগের আন্দোলনের তুলনায় এবার কিছুটা সংযত ভাষা ব্যবহার করছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিক্ষোভকারীদের প্রতি দয়ালু ও দায়িত্বশীল আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সমাজকে ও বিভোক্ষকারীদের বোঝানো বা শান্ত করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা হলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি।
জবাবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার হুমকি দেন। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ইরানের শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করবে না।
সম্প্রতি বছরের মার্চ থেকে ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩৬ শতাংশের বেশি। একই সময়ে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, পানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং ২০২৬ সালে মন্দার পূর্বাভাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে খামেনি বলেছেন, সরকার আলোচনায় প্রস্তুত আছে। কিন্তু দাঙ্গাবাজদের সঙ্গে কোনও আলোচনা নাকচ করেছেন তিনি।
রবিবার ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন , সরকার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করছে, তবে কিছু গোষ্ঠী বিক্ষোভকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি তরুণদের শত্রুর ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানান।