
কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালেও মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে এসেছে গোলাগুলির বিকট শব্দ। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় মিয়ানমার দিক থেকে আসা গুলিতে মো. আলমগীর (৩১) নামে এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
টানা গোলাগুলি ও জেলের আহত হওয়ার ঘটনায় টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের উত্তরপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ৮ হাজার বাসিন্দা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
গুলিবিদ্ধ জেলে মো. আলমগীর টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সহযোগীকে নিয়ে নৌকায় করে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আলমগীর। তারা নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ নামক জলসীমানায় পৌঁছালে হঠাৎ মিয়ানমারের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এতে আলমগীরের বাঁ হাতে গুলি লাগে।
আলমগীরের ভাই মো. ইউনুছ জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ এক বছর শান্ত থাকার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। নাফ নদীতে জেগে ওঠা তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেশটির রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনী এবং আরএসও-এর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে।
শুক্রবার সকালেও হোয়াইক্যংয়ের উত্তরপাড়া সীমান্তে গোলাগুলির বিকট শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, ‘‘সকাল থেকে সীমান্তের ওপারে গোলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। জেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে।’’
উখিয়া বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘সকালে মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমরা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি এবং বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।’’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘‘সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। আমরা গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছি।’’
এম.এম/সকালবেলা