
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ১২ দিন পার হয়ে গেলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতায় এখনো বড় ধরনের জট লেগে আছে। বিশেষ করে জামায়াত এবং চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ চরম আকার ধারণ করায় থমকে গেছে জোটের ভবিষ্যৎ। এ কারণে আগামী সোমবার ১১ দলের একক প্রার্থী ঘোষণার যে পূর্বপরিকল্পনা ছিল, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেন, “১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। সবারই দু-একটি করে আসনের বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারির অনেক আগেই আসন বণ্টন সম্পন্ন হবে।”
সূত্র জানিয়েছে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সংখ্যা নিয়ে দরকষাকষি কোনোভাবেই মিটছে না। ইসলামী আন্দোলন অন্তত ৭০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত তাদের ৪০-৪৫টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ১৩টি এবং এনসিপির সঙ্গে ৩০টি আসনে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে পুরো প্রক্রিয়াই আটকে আছে। জামায়াত নেতারা মনে করছেন, ১১ দলের চূড়ান্ত তালিকা ঠিক হওয়ার পর অবশিষ্ট প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ আসনে তাঁদের নিজস্ব ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রার্থীরা লড়বেন।
তবে শরিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতের ‘বড় ভাই সুলভ’ আচরণ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত প্রত্যাশিত আসন ছাড়ছে না, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, ৭০টির কম আসন পাওয়া তাঁদের জন্য অসম্মানজনক।
কেবল শরিক দল নয়, আসন ছাড়ের সিদ্ধান্তে খোদ জামায়াতের ভেতরেও অসন্তোষ দানা বাঁধছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, দেড় বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের পর শেষ মুহূর্তে আসনটি ছেড়ে দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এছাড়া মানিকগঞ্জ-২ আসনে শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমানের মনোনয়নপত্র দাখিল না করা এবং রংপুর বিভাগের বেশ কিছু আসন শরিকদের দেওয়ার সিদ্ধান্তেও নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পাল্টা অভিযোগ রয়েছে শরিকদের বিরুদ্ধেও। জামায়াত নেতাদের দাবি, তাঁরা অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার আসনে ছাড় দিলেও শরিক দলগুলো জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আসনে প্রার্থী বহাল রেখেছে।
১১ দল সূত্র জানায়, শুরুতে জামায়াত ১৫২টি এবং ইসলামী আন্দোলন ৩১টি আসনে সমঝোতায় পৌঁছালেও এখন সবাই আসন বাড়াতে চাইছে। এনসিপি আরও ৪-৫টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আরও ১২টি অতিরিক্ত আসন দাবি করছে। ঢাকা-১১ ও ময়মনসিংহ-১০ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো নিয়েও শরিকদের মধ্যে কাড়াকাড়ি চলছে।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এই ১১ দলের ঐক্য কতটা টেকে, নাকি শেষ মুহূর্তে এককভাবেই অধিকাংশ দল মাঠে নামে—তা এখন ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেই পরিষ্কার হবে।
মারুফ/সকালবেলা