
নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিশেষ করে বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা বেশি থাকে। আর সেভাবেই বিএনপি দেশ ও মানুষের জন্য পরিকল্পনা করছে। সেটাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগিয়ে বিএনপি নিরাপদ দেশ গড়ে তুলতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। সেটা কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে হাত দিতে হবে। মানুষ যেনো নিরাপদে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে, নিরাপদে ঘরে ঘুমাতে পারে-- সেরকম বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা হবে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশের সমস্যা সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশে মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল, তাহলে কেন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়তে পারবে না?
‘বিএনপি জন্ম থেকে জনগণের পাশে আছে, জনগণের সুখে-দুঃখে বিএনপিই পাশে আছে। বিএনপির পরিকল্পনা আছে, অভিজ্ঞতা আছে, যা দিয়ে পুনর্গঠন করা হবে দেশ। মূল লক্ষ্য, দেশকে পুনর্গঠন করা, যা ভেঙ্গে দিয়ে গেছে বিগত সরকার’, যোগ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
খালেদা জিয়াও ’৯১ সালে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন। তাকে জেলে রাখা হয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেলে জেল-জুলুম হবে না, কিন্তু তিনি দেশ ছাড়েননি। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দেশের মানুষকে ছেড়ে যাননি তিনি।
নারীদের বাদ দিয়ে দেশের অগ্রযাত্রা সম্ভব নয় জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে অনগ্রসর নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। তাদের পরিবারের একজন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে।তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের স্বচ্ছলতা আনতে তাদের পাশে দাঁড়াবে বিএনপি। তরুণ সমাজের অনেকে শিক্ষিত হলেও অনেকে বেকার রয়েছেন। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা প্রবাসে যেতে চান, তাদের সহজ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যেনো কাউকে জমিজমা বিক্রি করতে না হয়।এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। কর্মসংস্থান যেমন হবে, তেমনি নারী ও শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করা হব। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেয়া হবে’, যোগ করেন তিনি।এরপর কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠে নির্বাচনী পথাসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন,রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলে জনগণের ও দেশের লাভ হবে না। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপিরই নারীদের নিয়ে পরিকল্পনা আছে। বিএনপিরই পরিকল্পনা আছে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর। বিএনপিই পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার। প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড দেয়া হবে।
বিএনপিই একমাত্র সঠিকভাবে দেশ পরিচালনায় সক্ষম দাবি করে তারেক রহমান বলেন, যে ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল; নির্বাচনের নামে যে তামাশা হয়েছিল-- সেই ভোটাধিকার প্রয়োগের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ’৭১ ও জুলাইয়ের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়া হবে। এই নির্বাচন শুধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নয়, দেশ গঠনের নির্বাচন।