প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 9, 2026 ইং
কক্সবাজার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম কক্সবাজার সফরে এসে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কক্সবাজারের সার্বিক শৃঙ্খলা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। সৈকতে থাকা সব ধরনের অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করা হবে। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এবং নবগঠিত বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজের জন্মস্থান কক্সবাজার সফরে আসেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেশের গর্ব এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হিসেবে এটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। এজন্য সৈকত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পর্যটকদের জন্য কোনো ধরনের অসুবিধা সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। পুলিশ প্রশাসনের নেতৃত্বে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জনবল দেয়া হবে এবং শহরে ব্যাটারিচালিত টমটম ও অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা আর বাড়তে দেয়া হবে না। লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যানবাহন চলতে দেয়া হবে না এবং একটি লাইসেন্সের অধীনে একাধিক যানবাহন পরিচালনা করলে সেই লাইসেন্স বাতিল করা হবে। ধীরে ধীরে অচল হয়ে যাওয়া যানবাহনের সংখ্যা আর নতুন করে পূরণ না করে কমিয়ে আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যাতে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক থাকবে।
সভায় গৃহীত অন্যান্য সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় কক্সবাজারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ সার্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
© newsnet24bd All Right Reserved