ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকলেও স্বস্তিতে নেই বিএনপি। জয়ের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ নেতারা। কোথাও সাবেক এমপি, কোথাও প্রভাবশালী নেতা, আবার কোথাও পরিবারের সদস্যরাই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীর দিকে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) যাচাই-বাছাই ও মনোনয়ন জমাদানের চিত্র বিশ্লেষণে বিএনপির এই গৃহদাহের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আসনভিত্তিক বিদ্রোহী ও কোন্দলের চিত্র:
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া): এখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের বিরুদ্ধে লড়ছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর রুবেল এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ। রুবেল বলেন, ‘‘মানুষ আমাকে ভালোবাসে, তাই নির্বাচন করছি।’’
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা): এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মোতাহার হোসেন তালুকদার। তবে তার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ার।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর): এখানে বিদ্রোহের আগুন সবচেয়ে বেশি। দলীয় মনোনয়ন প্রকৌশলী ইকবাল হোসাইন পাওয়ার পর ব্যাপক ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরনসহ ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত হয়েও হিরন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর): জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রাথমিকভাবে আবু ওয়াহাব আকন্দের নাম থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। তবুও আবু ওয়াহাব আকন্দ, রোকনুজ্জামান সরকার এবং ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সমর্থকরা পৃথকভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা): এখানে বিএনপির জাকির হোসেন বাবলুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া): এখানে পারিবারিক ও দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। দলীয় প্রার্থী আকতারুল আলম ফারুকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন সাবেক এমপির স্ত্রী আখতার সুলতানা ও ছেলে তানভীর আহম্মেদ রানা। এছাড়া দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল করিমও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল): ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি আব্দুল খালেক ছেলে মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ): এখানে নাটকীয়ভাবে দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর শাহীন। দলীয় প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ-৯ ও ১০: নান্দাইলে (৯) ইয়াসের খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে লড়ছেন সাবেক এমপির স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী। গফরগাঁওয়ে (১০) আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান ও আল-ফাতাহ মো. আব্দুল হান্নান খান।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা): ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ মুর্শেদ আলম।
বিশ্লেষণ: আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে বিএনপির সামনে বড় সুযোগ থাকলেও ৯টি আসনে বিদ্রোহীরা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দলটির হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ দমন করতে পারে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে ময়মনসিংহে ধানের শীষের চূড়ান্ত ফল।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন