Deleted
প্রকাশ : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বেগম জিয়া: এক টুকরো সুখ ও দুঃখের উজ্জ্বল স্মৃতি

বেগম জিয়া: এক টুকরো সুখ ও দুঃখের উজ্জ্বল স্মৃতি

২০০১ এর কথা। অনার্স পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলো। সমাজকর্ম থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান অর্জন করি। তখন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সমস্ত কলেজের মধ্যে আমার সাবজেক্টে আমি ১ম হওয়ায় স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা গলায় পড়িয়ে দেন। এটা ছিল অত্যন্ত গর্বের, সম্মানের এবং স্বপ্নের।

সেদিন তার সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের আলোর দ্যুতিতে হতবাক ছিলাম। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম, আর ভাবছিলাম— এত সুন্দর মানুষ হয়! তার মিষ্টি হাসি, সামান্য কথোপকথন আমাকে বিমোহিত করেছিল।

আমার দিবারাত্রির কল্পনায় বহুদিন শুধু তিনিই ছিলেন। সেদিন উনার মতো হওয়ার লোভ ছিল মনে মনে। আমি উনার প্রতি চরম দুর্বল হয়ে গেলাম। আজ অবধি তা বেড়েই গেছে।

রাজনৈতিক কারণে আমার স্বামী বহুদিন জেলে। আমি প্রেগন্যান্ট। অসুস্থ শরীর নিয়ে দিকবিদিক ছুটেচলা পাগলপ্রায় অবস্থা আমার। হাসির অন্তরালে চেপে থাকা কত কষ্ট। কত প্রতিকূল পরিবেশ ছিল। আমার সেদিন ভরসার জায়গা ছিল মহান সৃষ্টিকর্তা।

এই কষ্টের ছুটাছুটির পর আমার সন্তানের জন্ম হয়। খুব করে ওর বাবাকে পাশে চেয়েছিলাম। রাস্তার একপাশে আমি, অপর পাশে জেলখানায় সন্তানের পিতা। নির্মমতার বাকি ছিল কি! চোখের জলে ভেসেছে কত স্বপ্ন।

সন্তান জন্মের পর মনে হলো যে দলের জন্য এই অবস্থা সেই দলের প্রধানের কাছে যাই। খুব সহজেই গুলসান কার্যালয়ে দেখা করলাম। সেদিন আমার কথা শুনে, মমতামাখা হাতটা মাথায় বুলিয়ে দিয়েছিলেন। সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। কোনো অহংবোধ ছিল না মনে।

সেদিনও তার অসাধারণ ব্যক্তিত্বে আমি বিমোহিত হয়েছিলাম। তাঁর বাহ্যিক সৌন্দর্যের থেকে মনের সৌন্দর্য ছিল আরো বেশি।

আজ ভাবতে কষ্ট হচ্ছে আমার প্রিয় একজন মানুষ— আমাদের মাঝে নেই। চোখের কোণে জল গড়িয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আমার খুব আপনজনকে হারালাম। বুকের ভিতরটা হাহাকার করছে। কোথাও চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে।

হার না মানা, আপোষহীন, দেশপ্রেমিক, দেশমাতা কজন হতে পারে! একজন খালেদা জিয়ার মেধা আর প্রজ্ঞার শূন্যতা পূরণ হবে না। দেশের এই ক্রান্তিকালে তাকে খুব দরকার ছিল।

আল্লাহ উনাকে বেহেশতের সর্বোচ্চ স্থানে রাখুন, এই কামনা করি। দেশপ্রেমিক বীরেরা মরে না। তারা সবার হৃদয়ে বেঁচে থাকে অনন্তকাল।

লেখিকা: শরিফুন্নেসা, 

প্রভাষক, করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টাঙ্গাইল-৫: টুকুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল

1

নৈরাজ্য করতে এলে গুলির নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

2

ল্যাবের রিপোর্ট নয়, এবার সেলফি দেখেই রোগ ধরবে এআই: জেনে নিন

3

সফল হতে হলে মামদানিকে ‘ওয়াশিংটনের প্রতি সম্মানজনক’ আচরণ করতে

4

মানবতাবিরোধী মামলায় জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু

5

দিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে খলিলুর রহমান

6

অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুখবর দিলেন ইতালির রাষ্ট্রদূত

7

'আমি মেয়ে হতে পারি, কিন্তু বোকা মেয়ে নই’

8

আত্মশুদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলো চরমোনাইর অগ্রহায়ণের মাহফি

9

চালু হলো কুয়াশায় বন্ধ থাকা পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ফেরি

10

আসছে এনসিপিসহ ৩ দলের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট

11

অসময়ের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ধান, আলু ও শীতকালীন সবজি

12

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় নিহত ৪০

13

রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ইরানি নির্মাতার কারাদণ্ড

14

ধর্ম অবমাননা, আবুল সরকারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি আলেম সমাজের

15

দুই গণমাধ্যমে হামলার ঘটনায় আরও ১১ জন গ্রেফতার

16

আ.লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন

17

ইমানদাররা ক্ষমতায় আসলে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হয়: মামুনুল হ

18

নিলামে বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এয়ারলাইন্স

19

এনসিপি থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পদত্যাগ

20
সর্বশেষ সব খবর