পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় দুই সন্তানের জননী মুন্নি আরা বেগম খুশিকে (৩০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জামায়াতে ইসলামের ওয়ার্ড সভাপতি জুলফিকার আলীর (৩৮) বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাগিনাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামে। নিহত মুন্নি আরা বেগম খুশি ওই গ্রামের জুলফিকার আলীর স্ত্রী। অভিযুক্ত জুলফিকার আলী মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামের সভাপতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর পারিবারিক কলহের জেরে মুন্নি বেগমকে তার স্বামী বেধড়ক মারধর করেন। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসার পর গতকাল ১৪ অক্টোবর তিনি বাসায় ফেরেন। পরে গভীর রাতে তাকে আবারও মারধর করা হলে মুন্নি বেগম মারা যান বলে অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীকে হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে জুলফিকার আলী ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার নাটক সাজান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার সকালে মুন্নির মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন সর্দারপাড়ার বাড়িতে ছুটে এসে মেয়ের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসে।
বোদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খুরশিদ আলম স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, সকাল থেকেই নিহত মুন্নি বেগমের বাড়িতে প্রতিবেশীদের ভিড় জমে যায়। নিহত মুন্নি বেগমের পরিবারের অভিযোগ, তার স্বামী জুলফিকার আলী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলেও জানান এসআই খুরশিদ আলম।
নিহত মুন্নি বেগমের বাবা মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার পারিবারিক কলহ নিয়ে সালিশ-মিমাংসা হয়েছিল। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজওয়ানুল হক জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শ্বশুর আবুল কালাম, শাশুড়ি রাহেলা বেগম এবং ভাগিনা গোলাম রব্বানিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সকালবেলা/এমএইচ