Deleted
প্রকাশ : বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

টেস্টের নামে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

টেস্টের নামে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্লাস টেস্টের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ নম্বরের ক্লাস টেস্ট পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

জানা যায়, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে কলেজটির একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন মোট ৪৯৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের ১৫ অক্টোবর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হামিদ মোল্লা এবং ক্লাস টেস্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মৌসুমী জাহানের স্বাক্ষরিত একটি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়। ওই রুটিন অনুযায়ী গত বছরের ২ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৫ মিনিটের ক্লাস টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা (অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক) বাবদ আগে থেকেই ৭০০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত পাঠদানের অংশ হিসেবে ক্লাস টেস্টের জন্য আলাদা করে ফি আদায়ের কোনো বিধান না থাকলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক এই অর্থ আদায় করেছে। টাকা না দিলে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “২০ নম্বরের ক্লাস টেস্টের জন্য আমাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কোনো টাকার রশিদ দেওয়া হয়নি। শুধু একটি টোকেন দেওয়া হয়েছে, যা দেখিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।”

তারা আরও বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি এভাবে বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য করা আমাদের জন্য চরম অন্যায়। এটি শিক্ষার নামে সরাসরি অর্থ বাণিজ্য।” শিক্ষার্থীদের একাধিক কল রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানা গেছে।

একাদশ শ্রেণির ক্লাস টেস্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক মৌসুমী জাহান বলেন, “১৪টি পরীক্ষার জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেগুলেশন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে।” তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তই সরকারি নির্দেশনা।”

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হামিদ মোল্লা ফি নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “সকল শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে রেগুলেশন করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।” তবে সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের বলুন, আমার বরাবর লিখিত আবেদন করতে। তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৈয়দা রিজওয়ানার বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

1

প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকায় বাড়ে নারী ও কন্যার প্রতি সাইবার

2

বিএনপি নেতা ডাবলু হত্যায় সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা মির্জা

3

রাষ্ট্র পরিচালনায় সিদ্ধান্ত কার?

4

৪৭৫০০ কেজি খেজুর নিলামে উঠেছে চট্টগ্রাম কাস্টমসে

5

টেস্টের নামে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

6

আসামে মুসলিমদের বহুবিবাহ নিষিদ্ধ, আইন ভাঙলে ১০ বছরের জেল

7

‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় ইমামসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজে ল

8

ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও তিনি ছিলেন পরিবারের সত্যিকারের

9

স্বামীর সিট নিয়ে তর্ক: চালককে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে পেটালেন এএ

10

আগামী ৫ বছরে মামলার সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমবে: আইন উপদেষ্টা

11

প্রার্থিতা ফিরে পেতে চলছে আপিল শুনানি

12

‘বিএনপি আমাদের অবমূল্যায়ন করেছে, ছাগল আর গরুর দাম এক হতে পার

13

‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে আসার কোনো য

14

সরাসরি নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ

15

বেগম জিয়া-তারেক রহমানের নিরাপত্তা প্রধান শামছুল ইসলাম

16

শীতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় স্থবির পঞ্চগড়

17

৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা কাল

18

‘আমার হাজবেন্ড সালমান শাহকে খুন করাইছে আমার ভাইরে দিয়া’

19

নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করার বৈধতা নিয়ে রিট

20
সর্বশেষ সব খবর