নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, কারওয়ান বাজার ও হাতিরঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসন। ভিআইপি এই আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে। তবে রাজনীতির মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তার দাখিল করা হলফনামা।
কোটিপতি প্রার্থীদের ভিড়ে তারেক রহমানকে এই আসনের ‘সবচেয়ে গরিব’ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার নিজের নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি, স্থাবর সম্পত্তি এমনকি হাতে নগদ কোনো টাকাও নেই।
সম্পদের বিবরণ: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পেশায় নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দেওয়া তারেক রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ৫৯ হাজার ১৪৩ টাকা। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
হলফনামার বিশ্লেষণে দেখা যায়:
নগদ টাকা: হাতে কোনো নগদ টাকা নেই।
ব্যাংক জমা: ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে তার নামে জমা আছে মাত্র ৮ হাজার ৮৫৫ টাকা।
স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য: নিজের বা স্ত্রীর নামে এক ভরি স্বর্ণও নেই। শেয়ারবাজারে নেই কোনো বিনিয়োগ বা বিমা পলিসি। এমনকি ঘরে কোনো ইলেকট্রনিক পণ্য বা আসবাবপত্রের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ নেই।
জমি বা ফ্ল্যাট: তারেক রহমানের নামে কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। উত্তরাধিকার সূত্রেও তিনি কোনো সম্পদের মালিক হননি। রাজউকের কোনো প্লট বা ফ্ল্যাটও নেই তার নামে।
স্বচ্ছ ভাবমূর্তি: সম্পদ না থাকলেও এই প্রার্থীর কোনো ঋণ নেই। হলফনামায় তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত বছর সরকারি কোষাগারে মাত্র ৫ হাজার টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন।
রাজধানীর অন্যতম সমস্যাজর্জরিত ও গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে আমজনতার প্রতিনিধি হিসেবে তারেক রহমানের এমন সাদামাটা আর্থিক চিত্র ভোটারদের মাঝে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন