নাজমুল হোসাইন মাহী, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি ভিপি (Vested Property) সম্পত্তি আত্মসাতের একটি সংঘবদ্ধ অপচেষ্টার অভিযোগে এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তা হয়েও তৎকালীন সরুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) আব্দুল আমিন খান চৌধুরী (রনি) মিথ্যা ও বানোয়াট তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারি সম্পত্তিকে ব্যক্তিমালিকানায় রূপ দেওয়ার অপচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটা বাজারের প্রাণকেন্দ্রে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থিত রাজেন্দ্রপুর মৌজার এসএ ৫৪৯ নম্বর খতিয়ানের ৭১ দাগভুক্ত সরকারি ভিপি সম্পত্তি (ভিপি মামলা নং ৩১/৮৬, তালা) মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে অবৈধভাবে দখল দেখাতে সহায়তা করেন অভিযুক্ত নায়েব। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উক্ত জমির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
২০২৪ সালে দায়িত্ব পালনকালে নায়েব আব্দুল আমিন খান চৌধুরী তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, তন্নী খাতুন ও সাবিনা ইয়াসমিন ইজারার ভিত্তিতে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন এবং বসতঘরের টিন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি পুরোনো বসতঘরের টিন ও দেয়াল সংস্কারের প্রয়োজন দেখিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে নতুন করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রতিবেদনে উল্লিখিত এসব তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, উক্ত জমিতে কখনোই বৈধ বসতঘর ছিল না এবং কোনো ধরনের ইজারাভিত্তিক দখলের নজিরও নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি ভিপি সম্পত্তি গ্রাসের নীলনকশা বাস্তবায়নে নায়েব রনি সরাসরি ভূমিকা রাখেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভেঙে দেন।
অভিযুক্ত নায়েব আব্দুল আমিন খান চৌধুরী (রনি) বর্তমানে আশাশুনি উপজেলা সদরে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আব্দুল আমিন খান চৌধুরী (রনি)-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আমি কী করেছি, আপনাদের সঙ্গে কেন কথা বলব? বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখবেন।” ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি তড়িঘড়ি করে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন